শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ক্ষমতালোভী, তিনি স্বাধীনতা চান নি, চেয়েছেন রাষ্ট্রক্ষমতা

স্বাধীনতার যুদ্ধের ঘোষণা আসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান নিজেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বলে যে ঘোষণা দেন তার আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার কোনো ঘোষণা আসে নি। আওয়ামীলীগ এই সত্য স্বীকার করতে চায় না।

 

শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ক্ষমতালোভী, তিনি স্বাধীনতা চান নি, চেয়েছেন রাষ্ট্রক্ষমতা। এর সেরা উদাহরণ হচ্ছে ৭ই মার্চের ভাষণ। তিনি সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নি, আলোচনার মাধ্যমে ক্ষমতায় বসার স্বপ্নে মগ্ন ছিলেন তিনি। উপস্থিত ছাত্র-জনতা সবাই চেয়েছিল স্বাধীনতার ঘোষণা। কিন্তু তিনি সে দিন ঘোষণা দেন নি।

 

ইয়াহিয়া খান তাকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশিরা মুক্তির জন্য মরিয়া ছিল, তারা বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে। বাংলার ভূখন্ডে তখন পাকিস্তানি সেনাও বেশি ছিল না। শেখ সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা সে দিন না দিয়ে অনেক মৃত্যুর কারণ হয়েছিলেন। ৭ মার্চ থেকে আলোচনার প্রস্তাবে তিনি স্বাধীনতার দাবি, ৬ দফা থেকে সরে এসে কূটনীতির মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন।

 

পাকিস্তানিরা আলোচনার মাধ্যমে কালক্ষেপন করছিল। আর শেষে তারা ২৫শে মার্চে আক্রমণ করে বসে। হাজার হাজার মানুষ মারা গেলেও শেখ মুজিব সেদিন আত্নসমর্পণ করে ফেলেছিলেন। যুদ্ধচলাকালে তিনি পাকিস্তানের কারাগারে নিশ্চিন্তে শুয়ে বসে দিন কাটাচ্ছিলেন, কিন্তু দেশের মানুষ যুদ্ধ করছিল। শেখ মুজিবকে পাকিস্তান কখনোই হুমকি ভাবে নি, কারণ তিনি স্বাধীনতার জন্য কিছুই করেন নি।

 

তার পরিবারের সকলে পাক সেনাদের নিরাপত্তায় আরামে দিন কাটাচ্ছিল। শেখ হাসিনার ছেলের জন্মও হয় পাকিস্তানীদের দেয়া নিরাপত্তার মধ্যেই। শুধু শেখ মুজিবই নয়, আওয়ামীলীগের নেতারাও তখন ভারতে পিকনিকের আমেজে আশ্রয়ে ছিলেন। দেশের মানুষ না খেয়ে মরছিল, মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে করে যাচ্ছিলেন কিন্তু আওয়ামিলীগের বড় বড় নেতারা মদের বারে বসে আড্ডা দিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন।

 

সেক্টর কমান্ডারদের নেতৃত্বে যুদ্ধ করা যোদ্ধারা পরে আওয়ামীলীগ বাদ দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন দলে দলে কারণ বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। তারা সমমনাদের সাথে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের দর্শন নিয়ে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছিলেন।

 

জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার পরে চট্টগ্রামে গণহত্যা শুরু হয়। মানুষের উপর হানা দেয়া হানাদারদের নৃশংসতা দেখে জিয়াউর রহমান সিদ্ধান্ত নেন যে দেশকে স্বাধীন না করলে দেশের মানুষকে বাচানো যাবে না। যেই ভাবা  সেই কাজ। সেক্টর কমান্ডার হিসাবে জিয়া পাকিস্তানকে নাস্তানাবুদ করেছিলেন। ১৯৬৫ সালে তিনি তার বীরত্বের জন্য পাকিস্তানে পুরষ্কার লাভ করেন।

 

শেখ মুজিবকে হত্যার পরে জনমানুষের সমর্থন পেয়ে মাত্র ক’দিনে তিনি মানুষের মনে স্থান করে নেন। দেশের জন্য সেক্রিফাইস করা লোকেদেরই প্রয়োজন ছিল এ দেশে। যারা নিরাপদে বসে বই লিখেছেন, হানাদারদের দিয়ে ঘর পাহারা দিইয়েছেন, তারা এ দেশের মালিক দাবী করে নিজেকে।

You may also like...

Leave a Reply

Read previous post:
আওয়ামীলীগ গণতন্ত্রের মোড়কে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের ইঙ্গিতবাহী দল

রোববারের পত্রিকা পড়ার পর আরও চিন্তিত হয়ে আছি। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, গুম ও নিখোঁজের কিছু ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততার...

Close